হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী,
রিপোর্ট: মুস্তাক আহমদ
আমেরিকার রণতরী “আব্রাহাম লিঙ্কণ” আজ যে আগ্রাসী আস্ফালন নিয়ে সমুদ্র চিরে এগোচ্ছে, তা নিছক সামরিক কৌশল নয়—এটি ক্ষমতার অহংকারের প্রতীক। আর এই অহংকারের বিপদ সম্পর্কে মানবজাতিকে সতর্ক করতেই পবিত্র কোরআন শুধু ইতিহাস বলেনি, ইতিহাসকে বারবার পাঠ করাচ্ছে।
কোরআন'কে বার বার পড়ার নাম, তাই পবিত্র যেন বার বার পড়া হয়৷ পবিত্র কোরআনের সুরা ফীল—
কেবল ৫৬০ খ্রিস্টাব্দের এক ঘটনার বর্ণনা নয়,
এটি এক চিরন্তন সতর্কবার্তা। “আলাম তারা কাইফা ফা‘আলা রাব্বুকা বিআসহাবিল ফীল” অর্থাৎ “তুমি কি দেখনি, তোমার প্রতিপালক হাতির অধিপতিদের সঙ্গে কী করেছিলেন?”
আব্রাহা বাদশা— ক্ষমতা, বাহিনী, হাতির লস্কর নিয়ে
কাবাঘর ধ্বংস করতে এসেছিল। তারও যুক্তি ছিল— আমিই শক্তিশালী, আমিই অপরাজেয়।
কিন্তু আল্লাহ দেখিয়ে দিলেন— অহংকারের ধ্বংসের জন্য সবসময় ছোটো ক্ষুদ্র বিষয় দিয়ে ধ্বংস করতে হয়, এমন কি কখনো আবাবিল পাখির ঠোঁটে থাকা নুড়িই যথেষ্ট। সেটা আমরা কোরআন পাঠ করে বুঝতে পারি৷
আজ সময় বদলেছে, কিন্তু চরিত্র বদলায়নি। ৫৬০ খ্রিস্টাব্দে ছিল আব্রাহা, আর ২০২৬ সালে নাম আমেরিকার আব্রাহাম লিঙ্কণ।
নাম বদলেছে, কিন্তু আস্ফালন একই— মজলুমদের উপর আগ্রাসন, ন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শন, এবং নিজেদেরকে ইতিহাসের ঊর্ধ্বে মনে করা।
ইরানকে “ধ্বংস করার” অজুহাতে আসলে আমেরিকা ও ইজরাঈল ধ্বংস করতে চায়ছে — দুনিয়ার মজলুমদের চেতনা, স্বাধীনতার সাহস, এবং প্রতিরোধের আত্মমর্যাদা।
কোরআন আমাদের এখানেই থামতে বলেনি। এই ঘটনাকে বারবার তিলাওয়াত করিয়ে আল্লাহ যেন বলছেন— সতর্ক হও। অহংকার বন্ধ করো। আস্ফালন থামাও। কারণ ইতিহাস আবার ঘটবে।
সুরা ফীল কোনো জাদুকথা নয়, এটি ক্ষমতার সীমা নির্ধারণকারী এক ঐশী ঘোষণা। আজ যদি সমুদ্রের বুকে ভাসমান রণতরী মনে করে— “আমিই শেষ কথা”,
তবে সে ভুলে যাচ্ছে— আল্লাহর কুদরত স্থল-জল-আকাশ—সবখানেই কার্যকর।
এই লেখার উদ্দেশ্য যুদ্ধের ডাক নয়, বরং অহংকারের বিরুদ্ধে বিবেকের ডাক। কারণ, যে সভ্যতা নুড়ির শক্তি ভুলে যায়, তার রণতরী একদিন ইতিহাসের ধ্বংসস্তূপেই চাপা পড়ে থাকবে।
আপনার কমেন্ট